পৃথিবীর কাল্পনিক রেখাসমূহ (Imaginary Lines of Earth)

আধুনিক বিজ্ঞান (Modern Science) - সাধারণ বিজ্ঞান -

5.5k

পৃথিবীর কাল্পনিক রেখা সমূহ

পৃথিবীর অবস্থান, সময় ও জলবায়ু নির্ধারণের জন্য ভৌগোলিকরা পৃথিবী পৃষ্ঠে কতগুলো কাল্পনিক রেখা কল্পনা করেছেন, যার প্রধান দুটি প্রকার হলো অক্ষরেখা (পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত) ও দ্রাঘিমারেখা (উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত) । প্রধান কাল্পনিক রেখাগুলো হলো নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উ), মকরক্রান্তি (২৩.৫° দ), সুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° উ) এবং কুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° দ) ।

Content added By
Content updated By
বিষুবরেখা (Tropic/Equator)

দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে। এ রেখাকে বলা হয় বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা। বিষুবরেখা নিরক্ষবৃত্ত, মহাবৃত্ত, গুরুবৃত্ত প্রভৃতি নামেও পরিচিত। নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করে। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ এবং নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে। বিষুবরেখা দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরভাগ, আফ্রিকার মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। বিষুব রেখার উপর অবস্থিত দেশসমূহ- ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, গ্যাবন, কঙ্গো, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, উগান্ডা, কেনিয়া, সোমালিয়া, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া এবং কিরিবাতি।

অক্ষাংশ (Latitude)

নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকে অবস্থিত কোনো স্থানের অক্ষাংশকে উত্তর অক্ষাংশ এবং দক্ষিণ দিকে অবস্থিত কোনো স্থানের অক্ষাংশকে দক্ষিণ অক্ষাংশ বলে। নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ ০°; উত্তর মেরু বা সুমেরুর অক্ষাংশ ৯০° উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু বা কুমেরুর অক্ষাংশ ৯০° দক্ষিণ।

অক্ষাংশ নির্ণয় পদ্ধতি:

অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।

১) ধ্রুবতারার সাহায্যে

২) সেক্সট্যান্ট যন্ত্র ও সূর্যের অবস্থান থেকে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা (Line of latitude)

অক্ষ রেখা, বা, অক্ষ বৃত্ত হচ্ছে পৃথিবীর পূর্ব–পশ্চিমকে পূর্ণভাবে আবৃত করে রাখা বিমূর্ত কতগুলো বৃত্তরেখা যা একই অক্ষাংশের সকল স্থানকে (উচ্চতা উপেক্ষা করে) সংযুক্ত করে।

নিরক্ষরেখা থেকে প্রত্যেক মেরুর কৌণিক দূরত্ব ৯০°। এ কোণকে ডিগ্রি ও মিনিটে ভাগ করে নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে সমাক্ষরেখা বলে।

Content added By
Content updated By

দ্রাঘিমারেখা (Lines of longitude) বা মধ্যরেখা (Meridian):

নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে রেখাগুলো কল্পনা করা হয়েছে তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।

মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্রিনিচ মান মন্দিরের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল মধ্যরেখা বলে। মূল মধ্যরেখার দ্রাঘিমা ০° ।

দ্রাঘিমা (Longitude):

গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে বা পশ্চিমে যে কোন স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়।

দ্রাঘিমা নির্ণয়ের পদ্ধতি: ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানের দ্রাঘিমা দুই ভাবে নির্ণয় করা যায়:

১) স্থানীয় সময়ের পার্থক্য

২) গ্রিনিচের সময়ের মাধ্যমে।

যে স্থানটির অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা উভয়ই ০°:

যেখানে নিরক্ষরেখা ও মূল মধ্যরেখা পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করে সেখানে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা উভয়ই ০°। এ স্থানটি গিনি উপসাগরে অবস্থিত।

সমাক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য

সমাক্ষরেখা (Parallels)

দ্রাঘিমারেখা (Meridians)

১. রেখাগুলো পরস্পর সমান্তরাল১. রেখাগুলো সমান্তরাল নয়
২. রেখাগুলো পূর্ণবৃত্ত২. রেখাগুলো অর্ধবৃত্ত
৩. রেখাগুলোর দৈর্ঘ্য সমান নয়; অক্ষাংশ বাড়লে সমাক্ষরেখার পরিধি কমে৩. প্রত্যেক দ্রাঘিমা রেখার দৈর্ঘ্য সমান
৪. রেখাগুলো পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত৪. রেখাগুলো উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত
৫. সর্বোমোট সমাক্ষরেখা ১৮১ টি৫. সর্বমোট দ্রাঘিমারেখা ৩৫৯টি
৬. সর্বোচ্চ অক্ষাংশ ৯০°৬. সর্বোচ্চ দ্রাঘিমা ১৮০°
স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়

স্থানীয় সময়: কোনো স্থানের সূর্য যখন মাথার উপর থাকে, তখন ঐ স্থানে মধ্যাহ্ন এবং সময় দুপুর ১২টা ধরা হয়। এ মধ্যাহ্ন সময় থেকে দিনের অন্যান্য সময় স্থির করা হয়। একে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় বলা হয়। ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান ৪ মিনিট। কোনো স্থান গ্রিনিচের পূর্বে হলে তার স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা বেশি হবে এবং পশ্চিমে হলে স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় থেকে কম হবে।

প্রমাণ সময়: প্রত্যেক দেশেই সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয়, সে সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় বলে। অনেক বড় দেশ হলে সে দেশে কয়েকটি প্রমাণ সময় থাকে। বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা ৬ ঘণ্টা অগ্রবর্তী। ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date line)

যে রেখা অতিক্রম করলে দিন এবং তারিখের পরিবর্তন হয়, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে। এ রেখা অতিক্রম করে পূর্ব থেকে পশ্চিমে গেলে একদিন বিয়োগ করতে হয়; পক্ষান্তরে পশ্চিমে থেকে পূর্বে গেলে একদিন যোগ করতে হয়। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা মূলত ১৮০° দ্রাঘিমারেখা হলেও কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি আঁকাবাঁকা। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা সম্পূর্ণভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের ওপর অবস্থিত।

১৮০° রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ, অ্যালিউসিয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে গেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাকে বেরিং প্রণালীতে ১২° পূর্ব, অ্যালিউসিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৭° পশ্চিম এবং ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের কাছে ১১° পূর্ব দিকে বাঁকানো। রেখাটি আঁকাবাঁকা না করলে এক দ্বীপের দুই পার্শ্বে সময়ের পার্থক্য হত একদিন। স্থানীয় লোকদের সময়ের হিসেবে অসুবিধা দূর করার জন্য রেখাটি আঁকাবাঁকা করে শুধু জলভাগের ওপর দিয়ে টানা হয়েছে।

Content added By
Content updated By
প্রতিপাদ স্থান (Antipode)

ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত বিন্দুকে সেই বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে। প্রতিপাদ স্থান নির্ণয় করার জন্য ভূপৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানা হয়। ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে ভূপৃষ্ঠের বিপরীত পাশে এসে পৌছায়, সেই বিন্দুই পূর্ব বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান। প্রতিপাদ স্থান দুইটির মধ্যে সময়ের পার্থক্য ১২ ঘন্টা। ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।

Content added By
Content updated By
কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of cancer)

২৩° ৩০' উত্তর অক্ষাংশ রেখাকে বলা হয় কর্কটক্রান্তি রেখা। রেখাটি উত্তর আমেরিকার দক্ষিণভাগ, আফ্রিকার উত্তর ভাগ এবং এশিয়ার দক্ষিণাংশ দিয়ে অতিক্রম করেছে। যে সকল দেশের উপর দিয়ে রেখাটি অতিক্রম করেছে, সেগুলো হলো- মেক্সিকো, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ (যুক্তরাষ্ট্র), বাহামা, পশ্চিম সাহারা, মৌরিতানিয়া, মালি, আলজেরিয়া, নাইজার, চাঁদ, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ভারত, বাংলাদেশ (মধ্যভাগ দিয়ে), মায়ানমার, চীন এবং তাইওয়ান।

Content added By

মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of capricon)

২৩° ৩০' দক্ষিণ অক্ষাংশ রেখাকে বলা হয় মকরক্রান্তি রেখা। রেখাটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ ভাগ, আফ্রিকার দক্ষিণভাগ এবং ওশেনিয়া মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। যে সকল দেশের উপর দিয়ে রেখাটি অতিক্রম করেছে, সেগুলো হলো- ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি, টোঙ্গা, ফিজি, অস্ট্রেলিয়া, মাদাগাস্কার, মোজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, কুক দ্বীপপুঞ্জ (নিউজিল্যান্ড), নিউ ক্যালিডোনিয়া (ফ্রান্স)।

সুমেরুবৃত্ত (Arctic circle): ৬৬° ৩৩' উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরুবৃত্ত।

কুমেরুবৃত্ত (Antarctic circle): ৬৬° ৩৩' দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরুবৃত্ত।

পৃথিবীর মেরু অঞ্চল (Polar region of the earth): ২ টি। যথা-

ক) উত্তর মেরু (North pole): আর্কটিক সাগরে অবস্থিত।

খ) দক্ষিণ মেরু (South pole): এন্টার্কটিকা মহাদেশে অবস্থিত।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...